
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক মো. সাহেদ আলী ও ৯ শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় 'তথ্যগত ভুল' থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, মামলায় উল্লেখিত আহতদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া গত বছরের ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য বাদীকে নোটিশ জারি করেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এজাহারনামীয় ১১৩ জনসহ মোট ১১৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন বর্তমানে জামিনে আছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, ড. হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শেখ ফজলে নূর তাপস, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা জখমী সাহেদ আলীর সন্ধানে ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজে সরেজমিনে খোঁজ নিয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে বা ঘটনার সময়ে আহত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির সভাপতির কাছে চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। জবাবে সমিতি জানায়, মো. সাহেদ আলী নামে সেখানে কোনো দোকান মালিক নেই। এছাড়া সাহেদ আলী নামে কোনো মালিক বা কর্মচারী আহত হওয়ার খবরও তাদের জানা নেই।
মামলায় বাদী শরিফ ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তারা হলেন—রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মীরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাইমা, আইশ আক্তার ও সাম্মি আক্তার। তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে কলেজ দুটির অধ্যক্ষ বরাবর চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ নাম, রোল নম্বর, পিতার নাম ও বিভাগের নাম না থাকায় তাদের তথ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলের আশপাশের কোনো হাসপাতালেও ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার তথ্য পাওয়া যায়নি। বাদীকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে থানায় হাজির করতে বলা হলেও সাড়া মেলেনি। বাদীর হাজারীবাগের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠালে বাড়িওয়ালা জানান, শরিফ নামে কাউকে তিনি চেনেন না।
পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর নাম শরিফুল ইসলাম, বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম এবং বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী এলাকায়। সেখানে খোঁজ নিলে তাকে কেউ চিনতে পারেননি। বাদীর মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন শরিফ। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ভুক্তভোগীকে হাজির করতে এবং চিকিৎসার কাগজপত্র দিতে বলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ভুক্তভোগীকে হাজির করেননি বা চিকিৎসার কাগজপত্র জমা দেননি। এজাহারেও চিকিৎসার কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে গেজেট হয়েছে। এ মামলায় যাদের কথা বলা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পাইনি। তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। পরবর্তীতে আহতদের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।'
সম্পাদক প্রকাশক : বি এম রাকিব হাসান, নির্বাহী সম্পাদক : আবির হাসান অনিক, ব্যবস্থ্যাপনা সম্পাদক : কাজী মিজানুর রহমান, বার্তা সম্পাদক, শেখ রাজিব, মফস্বল সম্পাদক : আমির হাসান অমিত। অফিসের ঠিকানা, ৫৪ লোয়ার যশোর রোড খুলনা সদর টেলিফোন 041722718 মোবাইল 01713024606, News Gmail : shadinbanglasongbad1@gmail.com
Copyright © 2026 স্বাধীন বাংলা সংবাদ. All rights reserved.