শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাগেরহাটে কড়ে দিঘি দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন রুপসার জাবুসায় জাকজমকপূর্ণ ৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: জাবুসা ইয়াং বয়েজ চ্যাম্পিয়ন রামপালের বাঁশতলি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম আব্দুল্লাহ’র গণসংযোগ বিএনপি নেতা জাফর ইকবালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বোমারু মিজানকে আটকের দাবি সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান চাবির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান চালকের চক্ষু; বিএনপি নেতার সেচ্ছাচারিতা, বিচারের দাবীতে স্থানীয় জনগণের মানববন্ধন উপকূলের মানুষের জীবন চলে বাঘ কুমিরের আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে রামপালে আহাদ হত্যা মামলা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধান দুই আসামিকে আটক করেছে এসআরবি-৬ খুলনাঞ্চলে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা সোলাদানায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পির মতবিনিময়
নোটিশ :
স্বাধীন বাংলা সংবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে , আমাদের ওয়েব সাইট পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার করা হচ্ছে...01711439614

উপকূলের মানুষের জীবন চলে বাঘ কুমিরের আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা: / ৭০ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবনপ্রবাহ বাঘ, কুমির ও প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিদিনের এক কঠোর সংগ্রামের বাস্তব রূপ। সুন্দরবন ও এর আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময়। উপকূলের অনেক পরিবার জীবিকার জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে। তারা বন থেকে মাছ ধরা, কাঁকড়া শিকার, মধু সংগ্রহ এবং কাঠ কাটার কাজ করেন। বনে ঢোকার সময় প্রতিটি মানুষের মনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও কুমিরের আক্রমণ হারানোর শঙ্কা থাকে। সংসারের প্রয়োজনে তারা শিক্ষক বাতায়ন-এর বর্ণনার মতো জীবনের ঝুঁকি নেন।

সিডর, আইলা বা রিমালের মতো ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলের মানুষের সাজানো সংসার বারবার ভেঙে দেয়। জীবিকার খোঁজে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে গেলেও নানা রকম সমস্যায় পড়েন বা প্রতারণার শিকার হন ইউনিক নিউজ। সুন্দরবনের নদী ও খালের পাড়ে কুমিরের উপস্থিতি এবং গহিন অরণ্যে বাঘের ভয় মাথায় নিয়েই তাদের রুটি-রুজির সন্ধান করতে হয়।

এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলের মানুষের প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। সে কারণে উপকূলের মানুষ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্যত্রে । জলবায়ু পরিবর্তনের কষাঘাত সুন্দরবন উপকূলে। ৩০ বছরে কমেছে ২২ শতাংশ ফসলি জমি। লবণাক্ততা বাড়ায় অনাবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে ৭ শতাংশ। নেই বিকল্প কর্মসংস্থানের বড় কোনো উদ্যোগও। এ অবস্থায় জীবিকার খোঁজে অন্যত্র পাড়ি জমালেও প্রতারিত হয়ে ফিরেছেন অনেকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কষাঘাত সুন্দরবন উপকূলে। ৩০ বছরে কমেছে ২২ শতাংশ ফসলি জমি। লবণাক্ততা বাড়ায় অনাবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে ৭ শতাংশ। নেই বিকল্প কর্মসংস্থানের বড় কোনো উদ্যোগও। এ অবস্থায় জীবিকার খোঁজে অন্যত্র পাড়ি জমালেও প্রতারিত হয়ে ফিরেছেন অনেকে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির সাথে নিত্য বসবাস। প্রতি বছর বাড়তে থাকা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা আর নদী ভাঙনে জর্জরিত এক জনপদ আজ নিজেদের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যত প্রজম্মকে একটি সুস্থ ও টেকসই জীবন কামনা করছে। কিন্তু সত্যি কি তারা পারবে তা করতে!

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ জলবায়ুর প্রতিনিয়ত পরিবর্তন। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বারংবার চরম আঘাত হানছে।জলবায়ু পরিবর্তন শুধুমাত্র পরিবেশে পরিবর্তন আনছে না, মানবজীবন, খাদ্য উৎপাদন, পানীয় জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

ম্যানগ্রোভ বন জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবের শিকার। উপকূলীয় জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছেন। সুন্দরবনের ক্ষয়ে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষার প্রাকৃতিক ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল যা জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিপন্ন হতে পারে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, সুন্দরবনের ৪০ শতাংশ অঞ্চল আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিলীন হতে পারে, যা বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব প্রকৃতি তহবিলের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সুন্দরবন যেমন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল, তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবিক ও পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করবে। পানিবাহিত রোগ (ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগ) বাড়ছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পরে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি দেখা দেয়। অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র অনুযায়ী, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ জলবায়ুজনিত কারণে শুধুমাত্র বাংলাদেশে ৭ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শহরমুখী অভিবাসন বৃদ্ধি পাবে, ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বিভাগীয় শহরে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি।

বস্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তথা অপরাধ, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েই যাবে, মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যারা বাস্তুচ্যুত হবে। ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা পরিবর্তন হলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং কলেরা রোগের বিস্তার বাড়বে।

স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠবে ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে। জলে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। ধান, গম, সবজি, পাটসহ বহু খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। গবাদি পশু ও খামারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানির সংকট তীব্র হবে, লবণাক্ততা ভূগর্ভস্থ ও পৃষ্ঠজল উভয়েই আক্রান্ত করবে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে জলবাহিত রোগ ও অপুষ্টি ব্যাপকভাবে ছড়াতে পারে। মৎস্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হবে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় নদী ও মোহনার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। চিংড়ি, ইলিশ ও অন্যান্য মাছের প্রজনন হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে জীবিকা হারাবে লাখো মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *