শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাগেরহাটে কড়ে দিঘি দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন রুপসার জাবুসায় জাকজমকপূর্ণ ৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: জাবুসা ইয়াং বয়েজ চ্যাম্পিয়ন রামপালের বাঁশতলি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম আব্দুল্লাহ’র গণসংযোগ বিএনপি নেতা জাফর ইকবালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বোমারু মিজানকে আটকের দাবি সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান চাবির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান চালকের চক্ষু; বিএনপি নেতার সেচ্ছাচারিতা, বিচারের দাবীতে স্থানীয় জনগণের মানববন্ধন উপকূলের মানুষের জীবন চলে বাঘ কুমিরের আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে রামপালে আহাদ হত্যা মামলা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধান দুই আসামিকে আটক করেছে এসআরবি-৬ খুলনাঞ্চলে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা সোলাদানায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পির মতবিনিময়
নোটিশ :
স্বাধীন বাংলা সংবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে , আমাদের ওয়েব সাইট পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার করা হচ্ছে...01711439614

খুলনাঞ্চলের ৪ নদী খননের, দেড়শ’ কোটি টাকা ভেস্তে

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা: / ১৭৫ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের ৪টি নদী খননের দেড়শ’ কোটি টাকা যেন ভেসে গেছে বানের পানির মত। প্রকল্পের নকশা ও প্রাক্কলন অনুসরণ না করে শুধু অর্থের মারিং কাটিং এর জন্য নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গলাটিপে হত্যা করা হচ্ছে। ৩২ কিলোমিটার নদী পুন:খননের একবছরের মধ্যেই তা ফের পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রকল্পগুলো কোন কাজে আসেনি। টেকসই প্রকল্পের নামে রাজনৈতিক লুটপাট এলাকার মানুষের ভোগান্তিকেই শুধু তরান্বিত করেনি বরং উন্নয়নের রোড ম্যাপে চরম ধ্বস নামিয়েছে।

বৃহত্তর খুলনার ডুমুরিয়ার তালতলা, ভদ্রা, শালতা ও বাগেরহাটের ভৈরব নদ খননে ১৫৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হলেও প্রকল্পের নকশা ও প্রাক্কলন অনুসরণ হয়নি। কাগজে-কলমের নকশার সঙ্গে বাস্তব খননের চিত্রে ব্যাপক বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ফলে খননে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত খননের কারণে সেই অর্থ পুরোপুরি পানিতেই ভেসে গেছে। নদী খনন পরবর্তী কৃষি বিপ্লবের যে সম্ভাবনা এবং নদীর জোয়ার ভাটার মাধ্যমে কানেকটিং নদ-নদীর সাথে যে সমন্বয়ের কথা ছিল তা কিছুই হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খা সম্পূর্নরূপে মুখ থুবড়ে পড়ে।

সূত্রমতে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তালতলা নদী পুনঃখননে ব্যয় করা হয়েছে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু খনন শেষে অন্য নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই নদীটি ফের পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। শুধু তালতলা নদীই নয়, একই করুণ দশা ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা ও শালতা নদীরও। এ দুটি নদী পুনঃখননে ব্যয় করা হয়েছে আরও ৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। খনন শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই নদী দুটি পলিতে ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এসব নদীর বুকে সবুজ ঘাস জন্মেছে, সেখানে গরু-ছাগল চরছে এবং কোথাও কোথাও ধানের চাষও হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলার তালতলা নদীটি পুনঃখনন শুরু হয় ২০২২ সালের ৩০ জুলাই। তবে খননকাজ সমাপ্ত হয় ২০২৪ সালে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার খননে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। খনন কাজ বাস্তবায়ন করে এএসডিজিএল-এমকেই (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রাক্কলন অনুযায়ী নদীটির মুখ ৩০ মিটার চওড়া, তলদেশ ১৫ মিটার চওড়া এবং গভীরতা ৪ মিটার হওয়ার কথা।

তালতলা নদীর পাড়ের বাসিন্দা অশিষ কুমার জানান, একসময় খর¯্রােতা এ নদী পলিতে ভরাট হয়ে যায়। নদীর বুক জুড়ে দোতলা ভবনসহ অসংখ্য বসতি গড়ে ওঠে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

তারা অভিযোগ করে জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে নদীর মধ্যে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষদের উচ্ছেদ করে খনন করা হয়েছে। কিন্তু খননে অনিয়ম-দুর্নীতি ও দায়সারা খনন হয়েছে। নকশা ও প্রাক্কলন সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। পাউবো কর্তৃপক্ষ অনৈতিক সুবিধা পেয়ে কারও ঘর ভেঙেছে, আবার কারও বাড়ি রক্ষা করেছে। খননের সময় মাটি নদী দুই পাড়ে রেখে উঁচু দেখানো হয়। খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রিও হয়েছে।

অন্যদিকে, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ভৈরব নদ এখন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। নাব্য ফেরাতে ২০২০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদের সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করলেও তার সুফল এখন পুরোপুরি হিমাগারে। শত কোটি টাকার সেই খনন প্রকল্পকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খুলনা ওয়াসার একটি পাইপলাইন এখন নদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নদ বক্ষে স্থাপন করা এই পাইপলাইনের কারণে একদিকে যেমন থমকে গেছে নৌপথ, অন্যদিকে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদের বুক যাকে স্থানীয়রা ‘পরিকল্পিত নদ হত্যা’ হিসেবেই দেখছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের একটি সেতুর নিচে ভৈরব নদের মাঝ বরাবর আড়াআড়িভাবে বিশাল এক পানির পাইপ স্থাপন করেছে খুলনা ওয়াসা। কেবল পাইপ বসিয়েই ক্ষান্ত হয়নি সংস্থাটি, বরং সেই পাইপ রক্ষার অজুহাতে নদীর ভেতর আড়াআড়িভাবে লোহার খাম্বা বসিয়ে শক্ত বেড়া দেওয়া হয়েছে। এই কৃত্রিম বাধার ফলে নদের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যহত হচ্ছে। ফলে খননকৃত নদে উজান থেকে আসা পলি নামতে না পেরে দ্রুত তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

মোল্লাহাটের মধুমতী নদী থেকে খুলনা শহরে পানি সরবরাহের এই প্রকল্পটি এখন ফকিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জন্য গলার কাঁটা। গত বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা অচল হয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও কয়েক হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে চাষিরা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। শুধু কৃষি নয়, নৌপথ অচল হয়ে পড়ায় ব্যাবসা-বাণিজ্যেও নেমেছে ধস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *