বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বাগেরহাটে কড়ে দিঘি দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন রুপসার জাবুসায় জাকজমকপূর্ণ ৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: জাবুসা ইয়াং বয়েজ চ্যাম্পিয়ন রামপালের বাঁশতলি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম আব্দুল্লাহ’র গণসংযোগ বিএনপি নেতা জাফর ইকবালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বোমারু মিজানকে আটকের দাবি সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান চাবির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান চালকের চক্ষু; বিএনপি নেতার সেচ্ছাচারিতা, বিচারের দাবীতে স্থানীয় জনগণের মানববন্ধন উপকূলের মানুষের জীবন চলে বাঘ কুমিরের আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে রামপালে আহাদ হত্যা মামলা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধান দুই আসামিকে আটক করেছে এসআরবি-৬ খুলনাঞ্চলে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা সোলাদানায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পির মতবিনিময়
নোটিশ :
স্বাধীন বাংলা সংবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে , আমাদের ওয়েব সাইট পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার করা হচ্ছে...01711439614

বিকেলে আ. লীগ অফিস খুলে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সন্ধ্যায় অগ্নিসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৮১ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন

১৮ মাসের মাথায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে গেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে অফিসে থাকা কিছু কাগজ পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

আগুনের খবর পেয়ে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গেলেও এর আগেই আগুন নিভে যায়। পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে প্রবেশ ও পুষ্পমাল্য অর্পণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টানিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি।

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলের রয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে সকলেই সমান সুযোগ পাবে। সেই চিন্তা থেকেই নেতাকর্মীরা অফিসে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে ১০-১৫ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করে। জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দাবি করে বলেন, আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই, আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার পুনরায় ফিরবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিলেন। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেলে ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র এসে অগ্নিসংযোগ করে। টানানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। পরে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে দেখছি।

কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ে কারা এসে এমনটি করেছে সেটি দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট থেকে উক্ত আওয়ামী লীগ অফিসটি বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন সেখানে অবস্থানরত নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা এবং নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহজালাল সুজনসহ আরো অনেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং ওই দুজন তখন মারাত্মক আহত হয়ে কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। পরে সরকার পতন হলে তারা হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।

এরপর দীর্ঘ ১৮ মাসের মাথায় খুলল খুলনা নগর ও আওয়ামী লীগ অফিস। কিন্তু তার ঘণ্টাখানেকের মাথায় আবারও সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।

বিএনপির বিবৃতি

শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ও পুষ্পমাল্য অর্পণের এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *