বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কুলুরচর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন প্রতিপক্ষ জিয়াউল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে হেলাল উদ্দিন বলেন,২০২১ সালে জিয়াউল হক তার মেয়ে জিনিয়াকে প্রায় ৭ শতক জমি লিখে দেন। পরবর্তীতে একই জমি তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তার কাছে বিক্রি করা হয়। জমি বুঝে নেওয়ার পর পুনরায় হুমকি-ধামকি দিয়ে তা বেদখলের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে জিয়াউল হক ভবিষ্যতে আর হয়রানি করবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করেন। হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় জিয়াউল হক পরিকল্পিতভাবে নিজের মাথায় আঘাত করে সেটিকে মারামারির ঘটনা হিসেবে সাজিয়ে তার পরিবার ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তার মেয়ে জামাই ইমরান ও আত্মীয় রশিদ কাজীর নাম জড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলুরচরের এই জমি বিরোধ দীর্ঘদিনের। একই জমির মালিকানা নিয়ে একাধিকবার হস্তান্তর, অস্পষ্ট কাগজপত্র ও মৌখিক চুক্তির কারণে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। মারামারি ঘটনা না ঘটলেও প্রতিপক্ষ কে ঘায়েল করতে জিয়াউল হক নিজের মাথা কেটে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।