বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

খুলনা প্রতিনিধি: কণিকা
খুলনায় বিভিন্নস্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল করায় প্রশাসনের নিরব ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুলনার নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। রোববার (২০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি খুলনার নেতা আহম্মদ হামীম রাহাত ও ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়— সম্প্রতি খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের ইতিহাসে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আ.লীগ প্রকাশ্যে মিছিল করছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই সংগঠনের হাতে প্রায় দুই হাজার মানুষ হ*ত্যার শিকার হয় এবং বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে বিতাড়িত হওয়ার ৮ মাসের মাথায় তাদের দেশব্যাপী কর্মসূচি দেশকে আবারও বিপদে ফেলার অপচেষ্টা।
সম্মেলনে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর ছাত্রজনতা রাজপথে থাকাকালীন এই গোষ্ঠী সাহস করে রাস্তায় নামতে পারেনি। কিন্তু ছাত্রজনতা সরে যাওয়ার পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তারা আবারও সক্রিয় হচ্ছে।
৮ মাস আগে শহিদ মীর মুগ্ধের তোরণের পাশে যে স্থানে ছাত্রদের রক্ত ঝরেছে, সেখানে এই পরাজিত শক্তির আস্ফালন অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। বক্তারা বলেন, প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা শুধু স্থানীয় ব্যর্থতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দুর্বলতার প্রতিফলন। খুলনাবাসী অতীতেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, প্রয়োজনে আবারও দেবে।
বক্তব্যে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্যের অভাবে এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তারা বারবার ইতিহাস বিকৃত করছে এবং নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।
ইন্টারিম সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়— দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তীব্র আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আগুয়ান ৭১-এর আহ্বায়ক ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাজ্জাদুল ইসলাম আজাদ প্রমুখ।