শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে একটি পিকআপ চুরির ঘটনায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গাড়িটি উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মো. মারুফ মীর মোল্লাহাট থানায় করা এজাহারে জানান, তাঁর নিজস্ব মালিকানাধীন মাহেদ্রা কোম্পানির একটি বোলেরো পিকআপ গাড়ি চুরি হয়েছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২০৪৯, ইঞ্জিন নম্বর CHKI A10107 এবং চ্যাসিস নম্বর MAI ZU2GHKKI A12012। এজাহারে গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে পিকআপটি রেখে যান চালক মুরসালিন। পরে রাতের দিকে চালক বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরবেলা গাড়িটি আনতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নির্ধারিত স্থানে পিকআপটি নেই।
পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির কোনো সন্ধান না পেয়ে মালিককে বিষয়টি জানানো হয়। তবে অত্র রহিমা ফিলিং স্টেশনে সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় ১:৪০ মিনিটের সময় ওই গাড়িটি চুরি করে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের ঢাকার দিকে রওনা করে। এরপর মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন গাড়ির মালিক।
পুলিশের নথিতে ঘটনাটিকে চুরি মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
এদিকে গাড়ি উদ্ধারে পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক।
গাড়ি চুরির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি কাজী রমজানুল হক বলেন, ‘আন্তরিকভাবে দুঃখিত যে আমার থানা থেকে একটি পিকআপ চুরি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে গাড়িটি চুরি হয়েছে। এখনো আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে এ চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম আমিন ,তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনের নাম বলেছে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হব।’
তবে দেড় মাসেও গাড়িটি উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মারুক মীর। তাঁর দাবি, পিকআপটি কিস্তিতে লোন তুলে নেওয়া এবং এই পিক আপটি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। গাড়িটি হারিয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেই সাথে লোনের টাকা পরিশোধের দুশ্চিন্তা বাড়ছে ।দ্রুত গাড়িটি উদ্ধার করে প্রকৃত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দেরও প্রত্যাশা, মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে কীভাবে একটি পিকআপ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা নিয়ে গেল, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চুরি হওয়া গাড়িটি দ্রুত উদ্ধার করবে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
চুরি যাওয়া পিকআপটি এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ভুক্তভোগীর আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধারের পাশাপাশি চুরি চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আব্দুল্লাহ ফারুক