বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাগেরহাটে কড়ে দিঘি দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন রুপসার জাবুসায় জাকজমকপূর্ণ ৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত: জাবুসা ইয়াং বয়েজ চ্যাম্পিয়ন রামপালের বাঁশতলি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম আব্দুল্লাহ’র গণসংযোগ বিএনপি নেতা জাফর ইকবালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বোমারু মিজানকে আটকের দাবি সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান চাবির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান চালকের চক্ষু; বিএনপি নেতার সেচ্ছাচারিতা, বিচারের দাবীতে স্থানীয় জনগণের মানববন্ধন উপকূলের মানুষের জীবন চলে বাঘ কুমিরের আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে রামপালে আহাদ হত্যা মামলা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধান দুই আসামিকে আটক করেছে এসআরবি-৬ খুলনাঞ্চলে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা সোলাদানায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পির মতবিনিময়
নোটিশ :
স্বাধীন বাংলা সংবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে , আমাদের ওয়েব সাইট পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার করা হচ্ছে...01711439614

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৫৪ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতা। লন্ডন থেকে যাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই নেতারা হলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারতে এক সপ্তাহের সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তাঁরা লন্ডন ফিরেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য এক গণমাধ্যমকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সাক্ষাতের বিষয়ে দ্বিতীয় কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের একজন গণমাধ্যমকে বলেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইলসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই দলকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে শেখ হাসিনার বসবাসরত বাড়িতে নেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছি। পুরো সময়টি তিনি আমাদের দিয়েছেন। তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তাঁর মধ্যে লক্ষিত হয়নি। তবে সামান্য একটু ওজন কমিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।’

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ভারত সরকার দিল্লিতে একটি সুসজ্জিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। শেখ হাসিনাকে সেবা ও সহায়তার জন্য সেখানে অনেকে কাজ করছেন। ওই বাসস্থানের নিরাপত্তাবলয়ও কয়েক স্তরে বিস্তৃত। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করেন বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি পাঠিয়ে নানা বিষয়ে তাঁর মতপ্রকাশ করেছেন। অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। অনলাইন কোনো মাধ্যমে, ভিডিও কনফারেন্স বা কলেও তাঁকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে বলে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ বলেন, তাঁর মা ইতিমধ্যে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান এবং অবসর নিতে চান।

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় দেশ শাসন করেন। এই সময়ে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোরভাবে দমনের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। এ সময় সহিংসতায় আনুমানিক এক হাজার চারশ র বেশি মানুষ নিহত হয় বলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনেক মামলায় তাঁর বিচার চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *