বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়েরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্পষ্টভাবে বলা আছে—দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রার্থী শত শত লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং নানা ব্যাখ্যা ও ফাঁকফোকরের মাধ্যমে প্রার্থিতা বৈধ করার চেষ্টা চলছে। এটি সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষভাবে বিএনপির কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণতন্ত্রের ধারক বলে দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ড সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মন্তব্য করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে, বিদেশে বাড়ি-সম্পত্তি গড়েছে, তারা আবার নির্বাচনের সময় দেশে ফিরে জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণ এমন ‘লুটেরা শ্রেণির’ প্রতিনিধিত্ব আর মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হতে চাইলে এককভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে বা নিজেদের এখতিয়ার বহির্ভূত ব্যাখ্যার মাধ্যমে কাউকে বৈধতা দেয়, তবে এনসিপি আদালত ও রাজপথ—দু’জায়গাতেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ঋণখেলাপিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণের শত শত কোটি টাকা ঋণখেলাপি রেখে অনেকে বারবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কেউ তিনটি ব্যাংকের ঋণখেলাপি হয়েও সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন—এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
এনসিপির মুখপাত্র জানান, দলটির ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং একজন ছাড়া সবাই বৈধতা পেয়েছেন, যা এনসিপির ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর রাজনীতির প্রমাণ। শেষে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না। নির্বাচন কমিশনকে ম্যানেজ করে কেউ বৈধতা পেলে, তা রাজপথে ও আদালতে প্রতিহত করা হবে।