
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে (৪০) ধর্ষণ করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার দুই যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে উপজেলার নদীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেসময় ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত শাহিন ও তার সহযোগী হাসান ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
পরে ওই নারী কালীগঞ্জ থানায় শাহিন ও তার সহযোগীকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার নদীপাড়া থেকে বিধবার কাছে থাকা দুইতলা বাড়ি ও ৩শতক জমি ২০ লাখ টাকায় কিনে নেয় অভিযুক্ত শাহিন ও তার ভাই। এরপর শাহিনের কু-নজর পড়ে বিধবার উপর এবং বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে হেনস্তার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল সে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিধবা মহিলার গ্রাম থেকে দুই আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসলে, শাহিন ও হাসান প্রবেশ করে পরপর দুইজন ধর্ষণ করে। পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িতে আসা আত্মীয়দের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। ধর্ষণের পর নারী চিৎকার করলে, অভিযুক্তরা তাকে গাছের সাথে বেঁধে চুল কেটে ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথমে নারী স্বীকার করেননি, পরে চিকিৎসার মাধ্যমে জানা গেছে তিনি হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী মহিলাকে থানায় ডেকে এনে এজাহার নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।