আগুনের খবর পেয়ে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গেলেও এর আগেই আগুন নিভে যায়। পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে প্রবেশ ও পুষ্পমাল্য অর্পণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

আগুনের খবর পেয়ে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গেলেও এর আগেই আগুন নিভে যায়। পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে প্রবেশ ও পুষ্পমাল্য অর্পণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলের রয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে সকলেই সমান সুযোগ পাবে। সেই চিন্তা থেকেই নেতাকর্মীরা অফিসে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিলেন। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেলে ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র এসে অগ্নিসংযোগ করে। টানানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। পরে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে দেখছি।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ে কারা এসে এমনটি করেছে সেটি দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট থেকে উক্ত আওয়ামী লীগ অফিসটি বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন সেখানে অবস্থানরত নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা এবং নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহজালাল সুজনসহ আরো অনেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং ওই দুজন তখন মারাত্মক আহত হয়ে কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। পরে সরকার পতন হলে তারা হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
এরপর দীর্ঘ ১৮ মাসের মাথায় খুলল খুলনা নগর ও আওয়ামী লীগ অফিস। কিন্তু তার ঘণ্টাখানেকের মাথায় আবারও সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।
বিএনপির বিবৃতি
শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ও পুষ্পমাল্য অর্পণের এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।