বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

জমে উঠেছে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের ঈদের বাজার। খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের জেলা সদরের বিপনি বিতানগুলো কেনাকাটার ধুম পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন গত বছরের তুলনায় বেচা কেনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পণ্যের তুলনামুলক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের পদচারণায় মার্কেট সরব হলেও সেই তুলনায় বেচা কেনা আশানুরূপ নয়। প্রতিটি মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের আনাগোনা। আয়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি থাকায় অনেকেই ছুটছেন ফুটপাথের দোকানগুলোতে। থেমে নেই অভিজাত শপিং মার্কেটের দোকানগুলো।
পবিত্র ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদকে সামনে রেখে শেষ মূহুর্তে এ অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠছে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আশপাশের শপিংমল গুলো। বিশেষ করে কাপড়, জুতা, কসমেটিকস ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরাও সেড়ে নিচ্ছে তাদের পছন্দের পোশাক, জুতা ও অন্যান্য কেনাকাটা। এবারে ঈদের বাজারে তরুণ – তরুণীদের একটি অংশ দেশীয় ব্র্যান্ডের দিকে নজর কাঁড়লেও বেশিরভাগ তরুণীদের সর্বাঙ্গে পছন্দ ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি- পিসের দিকে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দোকানী এবং নারগিস জাহান নামে একজন নারী ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি,জর্জেট ও নেট কাপড়ের ওপর কারুকাজ সংবলিত ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, গাউন, শাড়ির চাহিদা বেশি। দামের বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন এবারে ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি- পিসের মধ্যে মান ও স্থানভেদে ৪ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করা হচ্ছে।
খুলনা জলিল টাওয়ারের দোকানি রাজিব বলেন, প্রথম থেকে দশ রমজান পর্যন্ত তেমন কোনো বিকিকিনি ছিল না। চাকরিজীবীদের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়ার পর সবেমাত্র বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ডাকবাংলো মোড়ে একটি খুনের ঘটনায় আবারও পতন শুরু হয়। তবে যা হচ্ছে তা মোটামুটি ভালো। তিনি ছেলেদের গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রি করছেন।
বাগেরহাটে বড় বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, রোজার প্রথম দিকে ক্রেতার উপস্থিতি কম হেেলা গত কয়েদিন ধরে বেচাকেনা সন্তোষজনক। দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারতীয়, পাকিস্থানি ও চায়নিজ পোশাকের চাহিদাও রয়েছে। নারীদের থ্রি-পিস, গাউন ও শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টি-শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জন্য নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে অভিভাবকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
খুলনার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হাসান তারেক জাকির ও বাচ্চু আলী বেগ বলেন, নগরীর প্রাণ কেন্দ্র আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহিদ সোহরাওয়ার্দী বিপণি বিতান, রেলওয়ে বিপণি বিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলোতে বেঁচাকেনা সন্তোষজনক। তবে অভিজাত মার্কেটের তুলনায় মধ্যম সারির মার্কেট ও ফুটপাতে পণ্যের দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি ভালোই হচ্ছে।
গতকাল খুলনার মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কের মোড়ের ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে ভিড় দেখা যায়। তবে এ সময় যে জিনিসটি বেশি লক্ষণীয় তা হলো পুরুষদের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় অনেক বেশি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।
সাতক্ষীরার গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জানান, সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গান জা, জিমুচি ও ফারসি গাউন নামের পোশাকের চাহিদা এবারের ঈদে ব্যাপক। তরুণী ও উঠতি বয়সের নারীদের এই পোশাকের চাহিদা বেশী। সুতি থ্রি-পিস ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা, জর্জেট, পাকিস্তানি ফারসি গাউন থ্রি-পিস ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা, অর্গান জা ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা, জিমুচি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ভারতীয় ফারসি গাউন ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেশি হলেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করছেন সবাই। অনেকেই পরিবারের জন্য একসাথে কেনাকাটা করে নিচ্ছে ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
কেএমপি ও জেলা পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মার্কেটে ফোর্স ও মোবাইল টিমের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শহরের নিরাপত্তার জন্য চেকপোস্টের সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ আশাবাদী ঈদের মার্কেটে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।